আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ-এর প্রথম জানাজা রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) নিজ জেলা ভোলায় জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
পরিবারের সদস্য ও তার ব্যক্তিগত সহকারী আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পক্ষাঘাতসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শেষ সময়ে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
স্বজনরা জানান, মৃত্যুর পর তার মরদেহ ধানমন্ডির ১২/এ এলাকার তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে গোসল সম্পন্ন করে বাদ মাগরিব প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ আবার স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।
ব্যক্তিগত সহকারী আবুল খায়ের জানান, মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে সার্কিট হাউস মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব তোফায়েল আহমেদ মোট নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার জাতীয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।



