দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা। এত দিন এই জ্বালানির দাম ছিল ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিশেষ আদেশে নতুন মূল্যসূচি ঘোষণা করে বিইআরসি। ঘোষিত দাম বুধবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফার্নেস অয়েলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল ব্যবহৃত হয়। ফলে একবারে লিটারপ্রতি প্রায় ১২ টাকা দাম বাড়ায় ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে টানা দুই মাস ফার্নেস অয়েলের দাম কমিয়েছিল বিইআরসি। গত ৩০ জুন প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা করা হয়। এরপর পরবর্তী দুই মাসে ধাপে ধাপে দাম আরও কমে ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সায় নেমে আসে।
তবে এবার এক লাফে লিটারপ্রতি ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা নির্ধারণ করা হলো।
যেভাবে বিইআরসি দাম নির্ধারণ করছে
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১—উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি—এর দাম নির্ধারণের পূর্ণ এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।
এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে কমিশন।
সেই সময় থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে ফার্নেস অয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।
সর্বশেষ পুনর্নির্ধারিত দামে লিটারপ্রতি ফার্নেস অয়েলের মূল্য ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে বেড়ে ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সায় পৌঁছেছে।



