tanaka

চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম-এর সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২৯...
প্রচ্ছদজাতীয়রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা: আইসিজেতে মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা: আইসিজেতে মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে ২০১৬-১৭ সালে পরিচালিত ভয়াবহ ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর দায় এড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করে জানায়, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকান অঞ্চলে বসবাসরত একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। ‘রোহাং’ বা ‘রোশাং’ নাম থেকেই ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়ের উৎপত্তি, যা তাদের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতিতে তারা রাখাইনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং স্বাধীনতা-পূর্ব বার্মার রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতেও তাদের উপস্থিতি ছিল সুস্পষ্ট।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বাদ দেয়। ধাপে ধাপে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং ২০১৫ সালের নির্বাচনে তারা সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ সালে তাদের রাখাইন থেকে বিতাড়িত করে কার্যত রাষ্ট্রহীন করে তোলা হয়।

বাংলাদেশ জানায়, রোহিঙ্গা ভাষার সঙ্গে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার কিছু সাদৃশ্য থাকলেও এটি বাংলা থেকে স্বতন্ত্র। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করা তাদের আত্মপরিচয় অস্বীকার এবং জাতিগত নির্মূলের অংশ।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল এবং সমান অধিকারসহ সমাজে অন্তর্ভুক্তির নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়। তবে গত আট বছর ধরে মিয়ানমার রাখাইনে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ২০১৭-১৮ সালের চুক্তি সত্ত্বেও নানা অজুহাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে, যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ সরকার ২০২৩ সালের ৬ জুলাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে দেওয়া দাবিরও তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ওই ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘অর্ধ-মিলিয়ন বাঙালি’ রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশ জানায়, ১৯৭১ সালে রাখাইনের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৭ লাখেরও কম। এত বড় শরণার্থী প্রবাহ ঘটলে তা আন্তর্জাতিকভাবে নজরে আসত এবং পরবর্তী আদমশুমারিতেও এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিবৃতির শেষাংশে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার ও রাখাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করে টেকসই পুনর্বাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত না করে প্রকৃত সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।