ভাজি, ভর্তা থেকে শুরু করে মাছ-মাংস কিংবা বেকিং—প্রায় সব ধরনের রান্নাতেই কোনো না কোনো তেল প্রয়োজন হয়। বাজারে বর্তমানে রাইস ব্রান, সানফ্লাওয়ার, সয়াবিন, অলিভ ও নারিকেল তেলসহ নানা ধরনের তেল পাওয়া যায়।
ফলে স্বাস্থ্যের জন্য কোন তেল ভালো এবং কোন ধরনের রান্নায় কোন তেল ব্যবহার করা উচিত—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা রয়েছে। আসলে সব তেলের গুণাগুণ এক নয়। প্রতিটি তেলে থাকা ফ্যাটের ধরন, স্বাদ এবং রান্নার তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতাও আলাদা। তাই একটি তেলকে সবার জন্য ‘সেরা’ না ভেবে রান্নার ধরন ও নিজের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী তেল বেছে নেওয়াই ভালো।
প্রতিদিনের রান্নায় রাইস ব্রান তেল
হালকা স্বাদ ও তুলনামূলক বেশি স্মোক পয়েন্টের কারণে রাইস ব্রান তেল দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ভিটামিন-ই এবং গামা-অরাইজানলের মতো কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। সবজি ভাজা, প্যান ফ্রাইসহ মাঝারি থেকে উচ্চ তাপের রান্নায় এটি ব্যবহার করা যায়।
তবে যে তেলই ব্যবহার করা হোক না কেন, অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। রান্নায় তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অলিভ অয়েলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
বিশেষ করে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। সালাদ, ড্রেসিং এবং কম থেকে মাঝারি তাপের রান্নায় এটি ব্যবহার করা যায়। এর স্বতন্ত্র স্বাদ খাবারেও বাড়তি বৈচিত্র্য যোগ করে।
হৃদ্স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে অলিভ অয়েল রাখা যেতে পারে। তবে শুধু রান্নার তেল পরিবর্তন করলেই হৃদ্রোগের সব ধরনের ঝুঁকি কমে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সয়াবিন ও সানফ্লাওয়ার তেল
সয়াবিন ও সানফ্লাওয়ার তেলেও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। রান্নায় এগুলোর ব্যবহারও বেশ প্রচলিত এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরিতে এসব তেল ব্যবহার করা যায়।
তবে তেলের ধরন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিদিন কতটা তেল খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রান্নার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর তেলের মধ্যে বৈচিত্র রাখা যেতে পারে।
নারিকেল তেল কতটা ভালো?
নারিকেল তেলের স্বাদ ও গন্ধ অনেকেরই পছন্দ। এতে মিডিয়াম-চেইন ট্রাইগ্লিসারাইড বা এমসিটি রয়েছে। তবে অন্যান্য অনেক উদ্ভিজ্জ তেলের তুলনায় নারিকেল তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। তাই নিয়মিত রান্নায় এটি ব্যবহার করলে পরিমাণের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তেল বাছাইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?
ওজন কমানো বা হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে কোনো একটি তেলকে ‘ম্যাজিক’ সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিদিন মোট কতটা তেল খাচ্ছেন, কী ধরনের খাবার গ্রহণ করছেন, রান্নার পদ্ধতি কেমন এবং সামগ্রিক জীবনযাপন কেমন—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই পরিমিত তেল ব্যবহার করা, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার কমানো এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যাদের কোলেস্টেরল, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া



