tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআদালতরানা প্লাজা ট্র্যাজেডি

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি

১৩ বছর ধরে মামলা-বিচার আটকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণে

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ শিল্প বিপর্যয়ের দিন। সাভারে সেদিন আটতলা ভবন ধসে নিহত হন সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিক। আহত হন দুই হাজারের বেশি। এ ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি মামলাগুলোর বিচার। অধিকাংশই আটকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহ ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিক নিহত এবং প্রায় এক হাজার আহত হন। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৫ এপ্রিল সাভার থানায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৪ মে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করে। বর্তমানে ৩৮ জন আসামির মধ্যে সোহেল রানা কারাগারে, ১৩ জন পলাতক এবং বাকিরা জামিনে আছেন। হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মাত্র ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। দীর্ঘ সময় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও সাক্ষী সংকটের কারণে বিচার কার্যক্রম বারবার পিছিয়েছে।একই ঘটনায় ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার মধ্যে কেবল দুদকের একটি মামলার রায় হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত সোহেল রানার তিন বছর এবং তার মায়ের ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়। অন্য মামলাগুলো এখনো বিচারাধীন। বর্তমানে হত্যা মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে চলতি বছরেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রায় দেওয়া সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসামিপক্ষ ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ভুক্তভোগীরা এখনো ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় আছেন। ফলে ১৩ বছরেও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বিচার অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫৯৪ জন সাক্ষী থাকলেও এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ, মোট সাক্ষীর মাত্র ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশ সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে বিলম্ব হওয়ায় বিচার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও মাঝে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে প্রায় ছয় বছর বিচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নির্ধারিত অনেক তারিখেই সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে শুনানি পেছাতে হয়।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল। রাষ্ট্রপক্ষের আশা, চলতি বছরেই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে।