অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা রাখা তাঁদের একটি ভুল ছিল। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক ঐক্য এবং অর্জন-ব্যর্থতা নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান, বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
রাজনৈতিক দল নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা
আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বাস করা তাঁদের জন্য একটি বড় শিক্ষা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁরা আগে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না; মূলত ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা ছিল তাঁদের।
তিনি বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে এসে তাঁরা দেখেছেন, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারা এক ধরনের কথা বললেও পরে ভিন্ন আচরণ করতে পারেন। এ অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার শিক্ষা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাবদ্ধতা
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি যেহেতু সরকারের অংশ ছিলেন, তাই নিজেরও আত্মসমালোচনার জায়গা রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা ছিল। তাঁর ভাষ্য, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন উদ্যোগ নেওয়ার সময় রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সরকারকে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এসব পরিস্থিতিতেও অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কঠোর ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল।
সংস্কার থেকে সংশোধনের পথে
আসিফ মাহমুদ বলেন, শুরুতে সংবিধান পুনর্লিখনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা ছিল। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার কারণে সেই অবস্থান থেকে সংস্কার এবং পরে সংশোধনের পর্যায়ে যেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয় বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার অনেক ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় তাঁর নিজেরও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, তাঁদের সক্ষমতার মধ্যে থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণ, দেশ এবং গণতন্ত্রের শহীদদের প্রতি তাঁদের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা
সংলাপে বক্তব্য দেন কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ, আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু হেনা রাজ্জাকী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।



