সারা দেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্বাচনোত্তর সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। গতকাল বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-এর উত্তর গেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং দেশব্যাপী হামলা-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি; বরং ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে সাজানো ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। টার্গেট করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সংসদে যাওয়া ঠেকানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পূর্বসূরির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণ তাদের অধিকার আদায় করে নেবে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, তারা জাতির সামনে ‘ভোটচোরদের মুখোশ উন্মোচন’ করেছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা পক্ষ জনগণের ওপর জুলুম করলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবি করেন।
জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, জুলাই বিপ্লব পুরনো ধারার রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য হয়নি। বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা বলেন।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ছিল; কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর উমর ফারুক দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা তাদের রাজনৈতিক ভুল ছিল। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে আশাবাদ ছিল, তা পূরণ হয়নি; এ বিষয়ে টিআইবির প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বিভিন্ন সময়ের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল তা পূরণ হয়নি। নির্বাচনে অনিয়ম ও ফলাফল ঘোষণায় অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি রহস্য উন্মোচনের দাবি জানান। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে দ্রুত দোষীদের বিচার দাবি করেন তিনি। জুলাই সনদের যেসব বিষয় গণভোটে উপস্থাপিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের আহ্বানও জানান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের নেতারা এবং বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পুরানা পল্টন, প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট ও মৎস্যভবন হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।



