tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদখেলাযে ৬ কারণে এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল

যে ৬ কারণে এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে যাত্রা শুরু করেছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই সঙ্গে সেলেসাও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে শিরোপা জয়ের আশা জেগেছে। ইতিহাস, পরিসংখ্যান, দলীয় ভারসাম্য এবং কিছু কাকতালীয় মিলের কারণে অনেক ফুটবল বিশ্লেষকও ব্রাজিলকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় রাখছেন।

১. ২৪ বছরের শিরোপা খরা

ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে। এর আগে তারা শিরোপা জিতেছে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০ ও ১৯৯৪ সালে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিশ্বকাপে ব্রাজিল কখনোই ২৪ বছরের বেশি সময় শিরোপাশূন্য থাকেনি। ২০২৬ সালে ব্যর্থ হলে সেই অপেক্ষা বেড়ে দাঁড়াবে ২৮ বছরে। তাই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও রয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।

২. ভেন্যুর সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে ব্রাজিল জিতেছিল তাদের চতুর্থ শিরোপা। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকও যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাজিলের অধিকাংশ ম্যাচ এবং সম্ভাব্য ফাইনালও সেখানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ৩২ বছর পর একই মাটিতে আরেকটি শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা তাই আলোচনায় উঠে এসেছে।

৩. অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দারুণ সমন্বয়

কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলে রয়েছে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ। নেইমার, ক্যাসিমিরো, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, অ্যালিসন ও মারকিনিওসের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকারা আছেন। একই সঙ্গে এন্ড্রিক, রায়ান, কুনহা ও ইগর থিয়াগোর মতো তরুণদের উপস্থিতি দলকে আরও গতিশীল করেছে।

৪. আনচেলত্তির সফলতার ইতিহাস

ব্রাজিলের বড় শক্তি হতে পারেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে সফল কোচদের একজন তিনি। পাঁচবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পাশাপাশি ইউরোপের পাঁচটি শীর্ষ লিগেও শিরোপা জিতেছেন। নকআউট টুর্নামেন্টে তার অভিজ্ঞতা এবং কয়েকজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

৫. ফেভারিটের চাপ নেই

এবার ব্রাজিলকে টুর্নামেন্টের একক শীর্ষ ফেভারিট হিসেবে দেখা হচ্ছে না। অতীতে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে প্রবল প্রত্যাশার চাপ নিয়ে খেলতে নেমে হতাশ করেছে দলটি। অন্যদিকে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে তুলনামূলক কম আলোচনায় থেকেও শিরোপা জিতেছিল সেলেসাওরা। সেই অভিজ্ঞতা এবারও ইতিবাচক হতে পারে।

৬. ২০০২ সালের সঙ্গে বিস্ময়কর মিল

ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপজয়ী বছর ২০০২-এর সঙ্গে বর্তমান দলের কিছু কাকতালীয় মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। তখন রোনাল্ডো ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন, এবার একইভাবে নেইমারও চোট থেকে ফিরে এসেছেন। ২০০২ সালের আগে ব্রাজিলের বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার পারফরম্যান্সও আশানুরূপ ছিল না। এবারও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া দুই সময়েই একাধিক কোচ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে এবং দুই বিশ্বকাপেই ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’ থেকে অভিযান শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে ইতিহাস, পরিসংখ্যান, দলীয় ভারসাম্য এবং কিছু কাকতালীয় ঘটনার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে হলে মাঠের পারফরম্যান্সই হবে সবচেয়ে বড় নির্ধারক।