তৃষ্ণা মেটানো কিংবা শরীর সতেজ রাখতে প্রতিদিনই আমরা নানা ধরনের পানীয় পান করি। এর মধ্যে কিছু পানীয়কে স্বাস্থ্যকর ও উপকারী হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বাস্তবে সেগুলোর অনেকগুলোতে থাকতে পারে অতিরিক্ত চিনি, ক্যাফেইন, ক্যালোরি কিংবা কৃত্রিম উপাদান। নিয়মিত ও অতিরিক্ত পরিমাণে এসব পানীয় গ্রহণ করলে অজান্তেই শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই শুধু পানীয়ের নাম বা প্রচারণা দেখে নয়, এতে কী কী উপাদান রয়েছে এবং কতটা পরিমাণে রয়েছে—সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ফ্রুট জুস
ফল থেকে তৈরি হওয়ায় ফ্রুট জুসকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে জুসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি থাকতে পারে। পাশাপাশি জুস তৈরির সময় ফলের ফাইবারের বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়।
ফলে পুরো ফল খাওয়ার তুলনায় জুসের চিনি তুলনামূলক দ্রুত শরীরে শোষিত হতে পারে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি পরে ক্ষুধা বা ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
তাই জুসের পরিবর্তে পুরো ফল খাওয়াকে তুলনামূলক ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
এনার্জি ড্রিংক
তাৎক্ষণিকভাবে চাঙ্গা অনুভূতি দেওয়ার জন্য এনার্জি ড্রিংকে সাধারণত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যাফেইন ও চিনি থাকে। এগুলো সাময়িকভাবে সতেজতা বা শক্তির অনুভূতি দিলেও পরে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত কিংবা নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা এবং ঘুমের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ক্যাফেইন গ্রহণ করতে চাইলে তুলনামূলক কম ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন গ্রিন টি, বেছে নেওয়া যেতে পারে।
আইসড কফি
আইসড কফি নিজে থেকেই ক্ষতিকর কোনো পানীয় নয়। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, ক্রিম কিংবা বিভিন্ন ধরনের টপিং যোগ করা হলে এর ক্যালোরির পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে।
নিয়মিত এ ধরনের উচ্চ-ক্যালোরির কফি পান করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের কারণে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তাই আইসড কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে চিনি কম দেওয়া বা চিনি ছাড়া কফি বেছে নেওয়া তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।
ফ্লেভারযুক্ত পানি
ফ্লেভারযুক্ত বা স্বাদযুক্ত পানি দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও সব ধরনের পণ্য একই নয়। কিছু ফ্লেভারযুক্ত পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম মিষ্টি কিংবা বিভিন্ন ফ্লেভারিং উপাদান থাকতে পারে। এতে সাধারণ পানির তুলনায় অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি যুক্ত হতে পারে।
পানিতে বাড়তি স্বাদ আনতে চাইলে সাধারণ পানির সঙ্গে লেবু, কমলা, শসা কিংবা পছন্দের ফল ও ভেষজ উপাদান যোগ করা যেতে পারে।
মিল্কশেক
মিল্কশেক দেখতে সাধারণ পানীয় মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এতে থাকে প্রচুর চিনি, ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট। বিশেষ করে ক্রিম, আইসক্রিম, সিরাপ ও বিভিন্ন টপিং যোগ করলে পানীয়টির ক্যালোরির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
নিয়মিত উচ্চ-ক্যালোরির মিল্কশেক পান করলে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ওজন বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিকল্প হিসেবে ফল ও কম চর্বিযুক্ত দই দিয়ে তৈরি স্মুদি বেছে নেওয়া যেতে পারে।
পানীয় বাছাইয়ে যা খেয়াল রাখবেন
কোনো পানীয়কে শুধু ‘স্বাস্থ্যকর’ কিংবা ‘সতেজকারক’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে কি না, তার ওপর নির্ভর না করে এর পুষ্টি উপাদান যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে বোতলজাত বা প্যাকেটজাত পানীয় কেনার আগে লেবেলে থাকা চিনি, ক্যাফেইন, ক্যালোরি ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ দেখে নেওয়া উচিত।
সচেতনভাবে পানীয় নির্বাচন এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসকে আরও স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করতে পারে।



