tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযুদ্ধে নতুন মোড়, বাড়ছে স্থল অভিযান ঝুঁকি

যুদ্ধে নতুন মোড়, বাড়ছে স্থল অভিযান ঝুঁকি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত এক মাস পার হয়ে আরও জটিল ও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই নতুন করে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান পরিকল্পনা করছে। 이에 ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পূর্বে জানিয়েছিলেন যে, তাদের স্থল অভিযানের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়ানোতে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের প্রতিরোধ এবং হরমুজ প্রণালির গুরুত্বের কারণে ইরানে স্থল অভিযান ট্রাম্পের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান পরিকল্পনা

পেন্টাগন পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি, তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তারা খার্গ দ্বীপ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দ্বীপ দখল করা সহজ হলেও সেখানে সৈন্য মোতায়েন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মূল চ্যালেঞ্জ। হরমুজ প্রণালিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সেখানে থাকা সমরাস্ত্র ধ্বংস করা লক্ষ্য।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের দ্বীপগুলোকে সামরিক অভিযান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্থল অভিযান কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সময় নিতে পারে। সাবেক ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি কোনো হঠাৎ পরিকল্পনা নয়; এটি সুদূরপ্রসারী ও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছে।

আমেরিকান জনগণের প্রতিক্রিয়া

জারিপের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ আমেরিকান ইরানে স্থল অভিযানকে সমর্থন করেননি, শুধু ১২ শতাংশের মত রয়েছে সৈন্য মোতায়েনের পক্ষে। এক্সিওস সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পেন্টাগন একটি চূড়ান্ত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে স্থল বাহিনী ও বৃহৎ বোমা হামলাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২২০০ মার্কিন নাবিক ও মেরিন সৈন্য মোতায়েন হয়েছে। সংঘাতে অন্তত ১৩ মার্কিন সৈন্য নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ বলেছেন, ইরানের যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ‘উচিত শাস্তি’ দিতে প্রস্তুত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকাশ্য সংলাপের আড়ালে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে অভিযোগ করেছেন। গালিবাফ ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশটি এখন বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।

যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট

সঙ্ঘাত শুধু ইরান-ইসরাইল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ইসরাইলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ হামলা চালিয়েছে। গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের খবর এসেছে। ইরাকেও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের ব্যাপক হামলা ও ক্ষতি

রোববার তেহরানে বিস্ফোরণে আবাসিক এলাকা কেঁপে ওঠে, হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। পূর্বে বুশেহর ও খুজেস্তান প্রদেশে হামলায় পরিবার নিহত এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলেও হামলা চালিয়েছে।

হিজবুল্লাহ ও ইরানের যৌথ হামলা: ইসরাইলের ১০০টির বেশি শহরে সতর্কসংকেত বাজে। হাইফা উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসাবশেষ পড়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরাইলের সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

পরমাণু চুক্তি ও উপসাগরীয় উত্তেজনা

ইরান ক্ষুব্ধ হয়ে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি করছে। উপসাগরীয় দেশগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে, যদিও পাকিস্তানের পতাকাবাহী কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ ও যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন বাড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থল অভিযানের সম্ভাবনা যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ অবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মানবিক ক্ষতি

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,০৭৬। আহত হয়েছেন ২৬,৫০০ জন, যার মধ্যে ১,৭৬৭ শিশু। হামলায় ৩৩৬টি স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবাকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। আকাশ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্থল অভিযান—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি আরও বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।