tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিক‘যন্তর মন্তর ছাড়ব না’: মোদি-শাহ ও নির্বাচন কমিশনকে রাহুলদের কড়া বার্তা

‘যন্তর মন্তর ছাড়ব না’: মোদি-শাহ ও নির্বাচন কমিশনকে রাহুলদের কড়া বার্তা

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে যন্তর মন্তর বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে রাহুল বলেছেন, বিরোধীরা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। খবর আনন্দবাজারের।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট অভিযান শেষে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের চা-চক্র অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জোটের ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ‘ঘেরাওয়ের জাল গুটিয়ে আসছে’। নির্বাচনব্যবস্থা ও সংবিধান ধ্বংসের চেষ্টার বিরুদ্ধে বিরোধীদের লড়াইয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

তবে আগামী দিনে বিরোধী জোট কী ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি রাহুল। আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী শিবিরের পরিকল্পনায় বড় ধরনের ‘সারপ্রাইজ’ বা চমক রয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য নিষিদ্ধ বা ডিনোটিফাই করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধীদের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করার চেষ্টা চলছে।

সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা পিছু হটবেন না। যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলন সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নেও আপসহীন থাকার ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ বিরোধী জোটের অন্যান্য শরিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ভোটের অনিয়মের অভিযোগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আঘাতের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে তাঁদের আন্দোলন শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে আরও বিস্তৃত করা হবে।