tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদজাতীয়মোহাম্মদপুরে ১৬ গ্যাং, অপরাধ রাজ্যে তারাই ‘রাজা’

মোহাম্মদপুরে ১৬ গ্যাং, অপরাধ রাজ্যে তারাই ‘রাজা’

গত ১২ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৪টা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী বেড়িবাঁধ এলাকার একটি সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা মেলে এক দুর্ধর্ষ ঘটনার। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন যুবক হঠাৎ দৌড়ে আসছে। পেছন থেকে তাকে ধাওয়া করছে আরও বেশ কয়েকজন যুবক। একপর্যায়ে ওই যুবককে ধরে ফেলে তারা। এরপর তাকে রাস্তায় ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। কুপিয়ে তার একটি পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

যে কেউ স্ক্রিনে হঠাৎ চোখ রেখে মনে করতেই পারেন, এটি হয়তো সিনেমার কোনো দৃশ্য। কিন্তু না, বাস্তবেই দিনদুপুরে রাস্তায় ফেলে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইমন নামের ওই যুবককে। পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এলেক্স ইমন গ্রুপের মূলহোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করে অন্য আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। স্থানীয় সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলেক্স ইমন গ্রুপ ও আরমান-শাহরুখ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই দুই গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত।

এর ঠিক চারদিনের ব্যবধানে গত ১৬ এপ্রিল মোহাম্মদপুরে ফের খুনের ঘটনা ঘটে। মারামারি ও আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামের একজনকে।শুধু এলেক্স ইমন বা লম্বু আসাদুলের ক্ষেত্রেই নয়—মোহাম্মদপুরে খুনখারাবির এ ধরনের চিত্র এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অপরাধ চক্রের এই সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে নিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি ও শত শত অপরাধীর গ্রেফতারেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না মোহাম্মদপুরের অপরাধ জগৎ। এই অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যেন ‘গোলকধাঁধায়’ পড়েছে।নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অপরাধচক্রের লাগাম টানতে সবশেষ গত ১৯ এপ্রিল রাতে বেশ আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঠিক তার আগমূহূর্তেই পূর্বশত্রুতার জেরে আলম (২৭) নামের এক যুবককে ধাওয়া করে বেশ কয়েকজন যুবক। পরে তাকে একটি গলির মধ্যে নিয়ে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রায়েরবাজারের কিশোর গ‍্যাং পাটালী গ্রুপের প্রধান ও ফালান গ্রুপের প্রধানের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। এরই জেরে আলম নামের যুবককে একা পেয়ে বিরোধী গ্রুপের সদস্যরা তাকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।