tanaka

মেট্রোরেলের দরজা খুলে যাওয়ায় ২৬ মিনিট বন্ধ ছিল চলাচল

চলন্ত অবস্থায় মেট্রোরেলের একটি দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনায় উত্তরা-মতিঝিল রুটে প্রায় ২৬ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এমআরটি...
প্রচ্ছদরাজনীতিমিত্রদের ‘বিজয় নিশ্চিতে’ নতুন কৌশলে বিএনপি

মিত্রদের ‘বিজয় নিশ্চিতে’ নতুন কৌশলে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন সমঝোতা নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপি এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষ করেছে। আজ–কালের মধ্যেই অথবা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর মিত্রদের জন্য কোন আসনে কে নির্বাচন করবেন—তা ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে সংশোধিত আরপিও এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনে শরিকদের ‘বিজয় নিশ্চিত’ করতে বিশেষ কৌশল নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অনিবন্ধিত শরিক দল ও জোটের যেসব শীর্ষ নেতাকে বিএনপি মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দলে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এই কৌশলের আওতায় ইতোমধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের অন্তত দুটি অনিবন্ধিত দল বিএনপিতে যোগ দিয়ে নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে। আরও দু–একজন শীর্ষ নেতার আসন নিশ্চিত করা নিয়েও আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, নিবন্ধিত শরিক দলগুলোর জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত শীর্ষ নেতাদের আসনও প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি তুলনামূলক দুর্বল, তবু জোটগত ঐক্যের স্বার্থে তাদের ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালবেলাকে বলেন,
‘আসন্ন নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে শরিকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, দু–এক দিনের মধ্যেই বিষয়টি সুরাহা হবে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া যাবে।’
শরিকদের সঙ্গে কয়টি আসনে সমঝোতা হতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর।

নির্বাচন সামনে রেখে এখন পর্যন্ত বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ফলে ফাঁকা রয়েছে আরও ২৮টি আসন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব আসনে মূলত শরিকরাই নির্বাচন করবেন। তবে জোট নেতাদের অভিযোগ, তাদের তালিকা জমা দেওয়ার পরও আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ফাঁকা আসনগুলোর মধ্যে অন্তত ছয়টিতে অনিবন্ধিত দল ও জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তারা হলেন—
নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ,
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম,
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা,
কুষ্টিয়া-২ আসনে জাতীয় পার্টি (জাফর)-এর মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন,
যশোর-৫ আসনে জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাস
এবং ঝালকাঠি-১ আসনে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

এর মধ্যে গত ৮ ডিসেম্বর নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তাকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও এই আসনে আগে বিএনপি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে প্রার্থী করেছিল, এখন সেখানে প্রার্থিতা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ঝালকাঠি-১ আসন না পেয়ে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

নড়াইল-২ আসনে পুনরায় ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। বিএনপি এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

এ ছাড়া পিরোজপুর-১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকনের প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনার দাবিও উঠেছে।

গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত দলগুলোর সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেছে বিএনপি। এতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির জন্য আসন ছাড়ার বিষয়ে প্রাথমিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদকে দুটি আসন, এলডিপি, বিজেপি, এনডিএম এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে কয়েকটি আসন ছাড়ার ব্যাপারেও সমঝোতার অগ্রগতি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনে শরিকদের বিজয় নিশ্চিত করতে মনোনয়ন, দলভুক্তি ও আসন ছাড়—এই তিন কৌশলের সমন্বয়ে এগোচ্ছে বিএনপি।