অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে বিশ্বের অন্যতম দুর্গম মরুভূমি অঞ্চলে তৃষ্ণা, পানিশূন্যতা ও তীব্র তাপদাহে ১৯ আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল রিগ লালো মরুভূমি থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর কয়েক দিন আগে পাশের দাশত-ই মারগো, যা ‘মৃত্যুর মরুভূমি’ নামে পরিচিত, সেখান থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিমরোজের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক হাবিবুল্লাহ এলহাম জানান, মরুভূমি অতিক্রমের সময় তাদের সঙ্গে থাকা পানির মজুত শেষ হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতার কারণে একে একে সবাই প্রাণ হারান।
কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের পর নিখোঁজ অন্যদের খোঁজে অভিযান চালানো হয়। পরে আরও ১৪টি মরদেহ উদ্ধার হলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ইরানে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ১৯ জনই মরুভূমির মধ্যেই মারা গেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও আফগান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সবাই উত্তর-পশ্চিম আফগানিস্তানের বাদগিস প্রদেশের একই গ্রামের বাসিন্দা। উন্নত কর্মসংস্থান ও ভালো জীবিকার আশায় তারা ইরানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সীমান্তবর্তী মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে আটকা পড়ে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
আফগানিস্তান থেকে ইরানে প্রবেশের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে পরিচিত নিমরোজ প্রদেশ। বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি, অনুর্বর ভূপ্রকৃতি এবং গ্রীষ্মকালে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রার কারণে এ পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এই মরুভূমি পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসীরা তীব্র পানিশূন্যতা, চরম তাপদাহ ও শারীরিক অবসাদের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকির মুখে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঝুঁকি প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।



