tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার এ অবস্থানের কথা জানান তিনি।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই ইরান বর্তমানে অনেক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া বুধবার রাতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাজ করছেন এবং তিনি এ ক্ষেত্রে ‘খুব ভালো করছেন’।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটনের দেওয়া জবাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পুনরায় আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল: সেন্টকম

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

বৃহস্পতিবার সেন্টকম জানায়, ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতের প্রতিনিধিদের প্রণালির সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ার কথাও জানায় মার্কিন সামরিক কমান্ড।

সেন্টকমের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলো থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২৫ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে একই সময়ে ইরান কোনো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারেনি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

তবে এসব পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য। হিসাবের পদ্ধতি ও তথ্যের উৎসভেদে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার অনুমানে পার্থক্য রয়েছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়েছে। তবে হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের। সমঝোতা হলে জ্বালানি পরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ