tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিমধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেল-গ্যাস খাতে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেল-গ্যাস খাতে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের কারণে দেশের তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাস খাতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বড় অঙ্কের বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এখন একটি ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সহজ নয় এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। বিভিন্ন চাপ মোকাবিলা করেই সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যয় সরকার বহনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার পরিশোধ করবে।

মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাবে ভর্তি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। দক্ষ জনবল না থাকায় কোটি কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ কারণে মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালের পার্কিং সুবিধা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তার প্রচেষ্টায় ২০০৫ সালে তৎকালীন বেগম জিয়ার সরকারের সময়ে নামমাত্র মূল্যে চার একরের বেশি জমি হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ এ দানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

পর্ষদ সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসীম বড়ুয়া, পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ এবং ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান রানা।

পরে অর্থমন্ত্রী আগ্রাবাদ মহিলা কলেজে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের আইটি-ভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, “ডিজিটাল যুগে পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নেই।” একই সঙ্গে তিনি কলেজের জাতীয়করণ ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অযথা সময় নষ্টের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মফিজুল হক এবং কলেজ অধ্যক্ষসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।