tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

সকাল ১০টার পর রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-সংক্রান্ত গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকায় মোট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বাধিক ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে, যারা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে। জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে। জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইসি নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছেন ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং বিভিন্ন আসনে স্থানীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন। পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।

সারা দেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৬৫৯টি, যার মধ্যে দুর্গম এলাকায় কিছু অস্থায়ী কেন্দ্রও রয়েছে। মোট বুথ (ভোটকক্ষ) সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারী বুথ প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে। গাজীপুর-২ আসনে কেন্দ্রসংখ্যা অন্যান্য আসনের তুলনায় বেশি।

ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য ২৯৯টি আসনে ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন (প্রতি বুথে একজন) এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন (প্রতি বুথে দুইজন) দায়িত্ব পালন করছেন।

এবার ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে—একটিতে সংসদীয় আসনের প্রার্থীর প্রতীক এবং অন্যটিতে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্বে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন সদস্য রয়েছেন। নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার ও দফাদার) মাঠে রয়েছেন। উপকূলীয় ১৭টি আসনের ২৪টি উপজেলা ও দুটি সিটি করপোরেশনে নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ আমলে এলে বিচারিক হাকিমরা তা দ্রুত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে (সামারি ট্রায়াল) নিষ্পত্তি করবেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১ শাখা) বরাবর নির্ধারিত ছকে পাঠাবেন।