tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিভোটের আগে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, জানুয়ারিতে এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার

ভোটের আগে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, জানুয়ারিতে এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে এসেছে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি ব্যয় মেটাতে প্রবাসীদের মধ্যে দেশে বেশি অর্থ পাঠানোর প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলেই সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত বছরের মার্চে—৩২৯ কোটি ডলার। সে সময় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের প্রায় সমান।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহ বাড়ছে।

এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ এখন প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর বাস্তবসম্মত হওয়া, হুন্ডির ঝুঁকি ও ব্যয় বৃদ্ধি, নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে প্রবাসীদের আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর আগ্রহ—এসব কারণেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে।