tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভারতে বসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার ছক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের

ভারতে বসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার ছক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে তারা অপরাধী ও পলাতক হিসেবে পরিচিত। মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও অর্থ আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অথচ ভারতের কলকাতার শপিং মলের ফুডকোর্টে ব্ল্যাক কফি ও ফাস্টফুড খেতে খেতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার পরিকল্পনা আঁকছেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা—এমনটাই জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান

প্রায় ১৬ মাস আগে এক নাটকীয় গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় বিক্ষুব্ধ জনতার চাপের মুখে তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। তার পতনের পথ ছিল রক্তাক্ত। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই গণঅভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়নে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন।

হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মীও দেশ ছাড়েন। শাসনামলে নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একদিকে জনরোষ, অন্যদিকে ফৌজদারি মামলার চাপ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে ছয় শতাধিক নেতা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন এবং তখন থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

দলীয় কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে ভারতের ভূমিকা এখন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বছরের মে মাসে গণচাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে এবং দলটির সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে হত্যা ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ও প্রচারণার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনার শাসনামলের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে হাসিনা এই রায় প্রত্যাখ্যান করে ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করতে সমর্থকদের সংগঠিত করার চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা একটি গোপন আশ্রয়স্থল থেকে শেখ হাসিনা নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এসব তৎপরতা ভারত সরকারের নজরদারির মধ্যেই হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার প্রত্যর্পণের অনুরোধগুলো উপেক্ষিত থাকায় ভারতীয় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন হাসিনা। কলকাতা থেকে দিল্লিতে গিয়ে সরাসরি এসব বৈঠকে অংশ নেন দলীয় নেতারা। ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা দেশে থাকা নেতাকর্মী ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গত দুই নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে গত দশকের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, দলটি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেন।

টানা ১৫ বছরের শাসনের পর পতিত আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে সমালোচকরা সন্দেহের চোখে দেখছেন। মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই শাসনামলে বিরোধী কণ্ঠ দমন, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়মিত ঘটেছে।

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বা কারাবন্দী রয়েছেন বলে দলটির দাবি।

ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন

কলকাতা ও দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় উপস্থিতি ভারতের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একটি নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে পরিচালনার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার এক ভাষণের পর বাংলাদেশ সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করলেও ভারত সরকার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা তাদের শাসনামলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং গণঅভ্যুত্থানকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন।

তবে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় কিছু ভুল স্বীকার করে বলেন, দলটি কর্তৃত্ববাদী ছিল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি দুর্নীতির অভিযোগ আংশিক স্বীকার করলেও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাসিত এসব নেতা মনে করেন তাদের অবস্থান স্থায়ী হবে না। তবে দেশে ফিরলে কারাবরণের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা স্বীকার করছেন।