নেত্রকোনায় ছেলে ফয়সাল আহমেদকে (১৯) হত্যার বিচার দাবি করেছেন তাঁর মা লিজা আক্তার। একই সঙ্গে মামলা তুলে নিতে আসামিরা তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা শহরের মুক্তারপাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন লিজা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিজা আক্তার বলেন, ‘গ্রামের মানুষের সামনে সাউন্ডবক্সে গান বাজানোর অপরাধে আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সন্তানকে হত্যা করেই তারা থামেনি। মামলা তুলে নিতে আমার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। আমরা জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
নিহত ফয়সাল আহমেদ নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাবনিকোনা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নেত্রকোনার আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই রাতে বাবনিকোনা সংসদ বাজার এলাকায় স্থানীয় ইদ্রিস মিয়ার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সাউন্ডবক্সে গান বাজানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ফয়সাল আহমেদ ও তাঁর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে একই গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে মাসুম মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুম মিয়া তাঁর পরিবারের লোকজনকে নিয়ে ফয়সালসহ অন্যদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ফয়সাল, তাঁর চাচাতো ভাই রবিন মিয়া, চাচা সাদেকুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাই উজ্জ্বল মিয়ার ছেলে সৌরভ মিয়া আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ফয়সাল ও সাদেকুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে ফয়সালের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন ফয়সালের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. মিলন মিয়া, মো. কামরুল ইসলাম ও জুয়েল মিয়াসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর মিলন মিয়া ও মো. শাহজাহান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ফয়সালের বাবা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর বাকি আসামিরা মামলা তুলে নিতে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
ফয়সালের চাচা সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘মাসুম মিয়া, তাঁর বাবা কামরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই রাজন মিয়া, রিয়াজ মিয়া, মিলন মিয়াসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ফয়সাল নিহত হয়েছে। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছি। এখন আসামিরা আবার মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মাসুম মিয়া ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফয়সালের মৃত্যুর পর থেকে তাঁরা বাড়িতে নেই।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্স বাজানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ফয়সাল আহমেদ নামের এক কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’



