বিশ্ববাজারে গমের দাম ক্রমাগত কমলেও দেশের বাজারে আটার দাম উল্টো বেড়েই চলেছে। বিগত এক সপ্তাহে খোলা এবং প্যাকেটজাত উভয় ধরনের আটার দাম প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আটা কিনতে ভোক্তাদের খরচ বেড়েছে
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়, যা আগে ছিল ৫০-৫২ টাকা। দুই কেজির প্যাকেটগুলোর দাম এখন ১৩০ টাকা, আগে ছিল ১১০ টাকা। খোলা আটার দামও মানভেদে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫-৫০ টাকায়।
দামে উর্ধ্বগতি, কারণ অজানা
বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির পেছনে বিশ্ববাজার বা আমদানি ঘাটতির মতো কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বরং, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম গত এক বছরে প্রতি টনে ২৬৮-২৭২ ডলার থেকে কমে এসেছে ২১৪-২১৯ ডলারে। একইসঙ্গে, দেশে গম আমদানির পরিমাণও বেড়েছে।
২০২৩ সালে যেখানে গম আমদানি হয়েছিল ৫৪ লাখ ১৭ হাজার টন, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টনে — যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। চলতি বছরও ৯ মাসে আমদানি ৪৫ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিন্ডিকেটের অভিযোগ
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা একচেটিয়াভাবে দাম বাড়াচ্ছেন। সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দ্রুত আটা-ময়দার দাম বাড়ানো হলেও, পরে গমের দাম কমলেও তা বাজারে প্রতিফলিত হয়নি। এখন আবার সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীদের যুক্তি ভিন্ন
এদিকে, সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, “বাজেটে নতুন ট্যাক্স আরোপ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।” অন্যদিকে, বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী জানান, গমের আন্তর্জাতিক দাম কম থাকায় আমদানিতে আগ্রহ বেড়েছে, বিশেষ করে রাশিয়া, কানাডা ও ইউক্রেন থেকে।
চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর
দেশে চালের পর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পণ্য হলো আটা। তাই এর দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।



