সৌদি আরবের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হতে আর এক মাসও বাকি নেই। তবে এখনো হজ প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। ফলে প্রাথমিক নিবন্ধনে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক অনীহা।
সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে গত ২৭ জুলাই থেকে। এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র এক হাজার ৮১ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন—সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৪১ জন ও বেসরকারিভাবে ৪৪০ জন। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূলত বিমান ভাড়া চূড়ান্ত না হওয়ায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা যাচ্ছে না।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে। যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে দরকষাকষির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যদি দুই পক্ষ সমঝোতায় না পৌঁছায়, তাহলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন সম্প্রতি বিমান উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেছেন। গত বছর হজে বিমান ভাড়া ছিল ১,৬৭,৮২০ টাকা। এবার ধর্ম মন্ত্রণালয় ভাড়া দেড় লাখ টাকার নিচে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে সামগ্রিক হজ খরচ কমানো যায়।
অন্যদিকে, বিমান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন খরচ এবং রিয়ালের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা এবার শুল্ক ব্যতীত ভাড়া প্রস্তাব করেছে ১,৭১,০০০ টাকা এবং শুল্কসহ ১,৮০,০০০ টাকা। বিমান ডলারে হিসাব করে প্রতি হজযাত্রীর জন্য ১,৩০০ ডলার ভাড়া নির্ধারণ করতে চায়, কিন্তু ধর্ম মন্ত্রণালয় সেটা ৮০০ থেকে ১,০০০ ডলারের মধ্যে রাখতে চায়।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে। সমাধান না হলে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে ভাড়া চূড়ান্ত করা হবে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, “বিমান ভাড়া এক হাজার ডলারের মধ্যে না রাখলে আমরা আন্দোলনে যাবো।”
এদিকে, হজ প্যাকেজ তৈরির জন্য সৌদি আরবের বেশিরভাগ খরচের হিসাব ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। যেগুলো এখনো পাওয়া যায়নি, সেগুলোর আনুমানিক হিসাব ধরে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্যাকেজ ঘোষণা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে প্যাকেজ-১ এর খরচ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর মাধ্যমে খরচ হয় ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন প্যাকেজ নির্ধারিত ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা।
আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১,২৭,১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য ৪ লাখ টাকা জমা নেওয়া হচ্ছে, প্যাকেজ ঘোষণার পর বাকি টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সৌদি আরবের হজ রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী বছরের হজ অনুষ্ঠিত হবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে। প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময় ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আর বাড়ানো হবে না বলেই জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।



