tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদরাজনীতিবিভাজন নয়, দেশ বাঁচাতে দরকার দ্রুত নির্বাচন: মির্জা ফখরুল

বিভাজন নয়, দেশ বাঁচাতে দরকার দ্রুত নির্বাচন: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আর বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, কোনো দাবি উত্থাপন করে সমাজে বিভেদ তৈরি করবেন না। গণভোট বা পিআর নিয়ে আর আন্দোলন করবেন না। নির্বাচন হতে দিন, দেশের মানুষ বাঁচুক। দেশের মানুষকে বাঁচাতে দ্রুত ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।”

ঠাকুরগাঁওয়ে গণসংযোগের সময় বুধবার (১৫ অক্টোবর) তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৫ বছর আমি ঠাকুরগাঁওয়ের বাইরে থেকেছি, জেলও গিয়েছি ১১ বার, মোট সাড়ে তিন বছর কারাগারে কাটিয়েছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ভয়ের মানুষ ভাবতেন বলে এতবার কারাগারে যেতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণ যাকে ভোট দেবেন, সেই প্রার্থী সংসদে গিয়ে আপনাদের জন্য কথা বলবে, এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এবারের নির্বাচন একটু ভিন্ন—পার্লামেন্টে থাকবে দুই কক্ষ, উচ্চ ও নিম্নকক্ষ। নিম্নকক্ষে ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী থাকবেন, আর উচ্চকক্ষে থাকবেন আলেম সমাজ, বৌদ্ধ, হিন্দু, বিজ্ঞ সমাজের প্রতিনিধিরা যারা সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করবেন। এভাবেই থাকব আমরা সবাই একসাথে, শত ফুল ফুটতে দিন, ফুলগুলো ছড়িয়ে পড়বে সৌরভ।”

বিএনপি মহাসচিব হিংসা ও ধর্মীয় বিভেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেন, “আমরা হিংসার রাজনীতি চাই না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। দেশের ভাগাভাগির রাজনীতি আর হবে না, এতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন আমরা সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকতে চাই।”

তিনি আরো বলেন, “মানুষ যাকে ভোট দেবে, সেই প্রার্থী নির্বাচিত হবেন। এই মানসিকতা বজায় রাখতে হবে, তাহলেই সুন্দর দেশ গড়া সম্ভব। আমরা সবাই মিলে দেশটাকে সুন্দর করার জন্য ছুটছি।”

ভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, “ভোট হবে, আমি আমার ভোট দিবো যাকে খুশি তাকে। সবাই সঠিক প্রতিনিধি পাবে। বিভাজনের কোন সুযোগ নেই।”

জুলাই সনদ নিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, “১৭ অক্টোবর সনদে স্বাক্ষর করা হবে। যদিও কঠিন শব্দ, তবে জনগণকে বোঝাতে হবে। এটি এমন একটি সংস্কার, যেটি দেশের রাজনীতিতে দরকার, যেন ঘরের নতুন টিন লাগানো হয়, দরজায় কব্জা লাগানো হয়—রাজনীতি সংস্কারের সময় এসেছে।”

সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তিনি জানান, “যে বিষয়গুলোতে সবাই একমত হয়েছে সেগুলোতে স্বাক্ষর হবে, আর যে বিষয়গুলো নিয়ে মতানৈক্য আছে সেগুলো জনগণের কাছে নিয়ে গিয়ে সমর্থন নেওয়া হবে।”

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১ কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, ফ্যামিলি কার্ড এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল পুনরায় সকলকে আহ্বান জানান, “আর বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, গণভোট ও পিআর নিয়ে আন্দোলন বন্ধ করুন। ভোটের মাধ্যমে দেশকে বাঁচাতে দ্রুত নির্বাচন হোক।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা আন্দোলন করছেন তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়, তারা নির্বাচনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়। সবাই ভোট দিতে চায়। দয়া করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে দিন। নির্বাচিত সংসদ গঠিত হলে পরে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা হিংসার রাজনীতি চাই না, যেন কারো ওপর গুলি চালানো না হয়।”

এদিকে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে ভোটারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট আনতে নিজের সংসদীয় আসনে জনগণের সাথে মতবিনিময় করছেন।