tanaka

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২০৪ কোটি ডলার

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি...
প্রচ্ছদটপ নিউজবিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশি উদ্যোক্তা কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যে কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শীর্ষ করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী মহলের আস্থার প্রতিফলন। তাদের অনেকেই বাংলাদেশকে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে সংযুক্তি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, ব্যবসার সাফল্যের জন্য সরকারের প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতি ও কার্যকর সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, “নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায় আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুন। আপনি দেশীয় উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সরকারও আপনাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, আমাদের সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার পরিধি আরও বড়। দ্রুত বিকাশমান অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত সরকার—এসব শক্তি দেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনী ইশতেহারে সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শুধু বিনিয়োগ নয়, দেশের উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করলেও অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগে। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজ কর ব্যবস্থা, মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন সুযোগ, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের সরলীকরণ এবং মুনাফা নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ শুরু করেছে।

এছাড়া গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপ খাতকে উৎসাহ প্রদান, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বন্দর ও লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্পে বৈচিত্র্য আনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে। তিনি দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের এই অগ্রযাত্রার অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সরকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।