tanaka

চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম-এর সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২৯...
প্রচ্ছদরাজনীতিবিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা — সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা — সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপি ক্ষমতায় এলে “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন করবে কি না—এমন প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এই প্রশ্নই সঠিক নয়। বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস হচ্ছে সংস্কার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ইতিহাস।”

তিনি জানান, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৯৬ সালে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এরও আগে, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় বাকশাল বিলুপ্ত করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন। এসবই বিএনপির সংস্কারধর্মী রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রমাণ।

তিনি বলেন, “এতদিনের এই ইতিহাস সামনে রেখে বিএনপিকে যদি প্রশ্ন করা হয়—সংস্কার বাস্তবায়ন করবে কি না, তাহলে সেটি অনুচিত এবং অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।”

শনিবার (২৩ আগস্ট) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

৩১ দফা সংস্কার ও আগাম অঙ্গীকার

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের নিজস্ব সংস্কার এজেন্ডা রয়েছে—৩১ দফা প্রস্তাব। বর্তমান সরকারের গঠনের অনেক আগেই আমরা জনগণের সামনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছি। আজ তা দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ‘মহাকাব্যে’ রূপ নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সংস্কার আমাদের অন্তরের দাবি। আমরা এ সংস্কারের উদ্যোক্তা। বিএনপি সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না—এমন চিন্তা অমূলক।”

ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। এটি হবে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের জন্যই এ দেশের মানুষ আন্দোলন করেছে, শহীদ হয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভাষণ দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনে চিঠিও পাঠিয়েছেন। কমিশন প্রস্তুত।”

“আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেব। সকল গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে আহ্বান জানাব—আসুন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করি এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ সহজতর করি।”

জোট গঠন নিয়ে অবস্থান

বিএনপি নির্বাচনে কার সঙ্গে জোট করবে—এ প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “আমাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যারা আমাদের সঙ্গে যুগপৎ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিল, তাদের সঙ্গে আমরা জোট করব। এছাড়াও ইসলামপন্থী বা অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গেও জোট হতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”

তিনি বলেন, “আমরা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। যদিও নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবেই, তবে গণতন্ত্রের মূল প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।”