দক্ষিণ লেবাননে বাবার দাফনে অংশ নিতে গিয়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে এক শিশুকন্যা। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে তার সাত বছর বয়সী বোনসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশার মধ্যেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা গ্রামে সাঈদ পরিবারের বাড়িতে হামলাটি চালানো হয়। ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যার ইতিবাচক প্রভাব লেবাননেও পড়তে পারে—এমন আশা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বাস্তবে সেদিনই দেশজুড়ে সহিংসতা বেড়ে গিয়ে ৩৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম তালিন, বয়স ছিল দুই বছরেরও কম। তার দাদা নাসের সাঈদ জানান, পরিবারের সদস্যরা তার ছেলের দাফনে অংশ নিতে একত্রিত হয়েছিলেন। হঠাৎ বিমান হামলা শুরু হলে মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু আচমকাই হামলা শুরু হয়।”
হামলায় আহত সাত বছর বয়সী আলিন সাঈদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মা-ও গুরুতর আহত হয়েছেন।
লেবাননে চলমান সংঘাত শুরু হয় ২ মার্চ, যখন হিজবুল্লাহ ইসরাইলি অবস্থানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল মনিটর



