tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদজাতীয়বাড়ছে লোডশেডিং, চাপে জ্বালানি

বাড়ছে লোডশেডিং, চাপে জ্বালানি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির কারণে পরিবহন খাত থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন—সবখানেই চাপ বাড়ছে। এরই মধ্যে গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, ফলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গ্যাসের ঘাটতি এবং কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চাহিদার শীর্ষ সময়ে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনার উদ্যোগ নিচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দিয়ে গড়ে প্রায় ৫,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। তবে এই সরবরাহ ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেলে উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপ্রিল-মে মাসে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও উৎপাদন সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, যা বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

পিডিবি’র সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর প্রযুক্তিগত সমস্যার পাশাপাশি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার অভাবে পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পেট্রোবাংলার কাছে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাওয়া হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাপমাত্রা সহনীয় থাকলে চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ১৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার মেগাওয়াট—যা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতির সমান। সাধারণত এমন ঘাটতিতে দেশজুড়ে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হয়ে থাকে।

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ না হলে এসব কেন্দ্র চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারও পরিস্থিতিকে খারাপ করছে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবৈধ চার্জিংয়ের কারণে প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ—এই তিন কারণে সংকট তীব্র হয়েছে। এলএনজি, কয়লা ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সরকারকে প্রতিদিন বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩২২ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে ১২ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং মে মাসে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গ্রীষ্মের ভরা মৌসুমে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য স্থানীয় জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।