tanaka

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২০৪ কোটি ডলার

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি...
প্রচ্ছদজাতীয়বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’, দাবি ইএসডিওর

বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’, দাবি ইএসডিওর

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। সংস্থাটির দাবি, পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন এবং কার্যকর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ইএসডিও জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানিকৃত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) ল্যাবরেটরিতে সেগুলোর বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত পণ্যেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার ২২টিতে, ভারতের পাঁচটির একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটির একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুই নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল-এ। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হটক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ-এ ১৬০টি করে, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরি-তে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্টহিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি করে কণা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট-এ ৮০টি, পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি-স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং এবং মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা-সহ একাধিক টুথপেস্টে ২০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

তবে ইএসডিও স্পষ্ট করেছে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা নয়। বরং বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য সীমা, জাতীয় মানদণ্ড, পরীক্ষার নির্দেশিকা কিংবা লেবেলে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির একটি বৈজ্ঞানিক চিত্র তুলে ধরাই ছিল গবেষণার মূল লক্ষ্য।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় মানদণ্ডের অভাব, নিয়মিত বাজার তদারকির সীমাবদ্ধতা এবং পরীক্ষাগারের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো, নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করা এবং বিদ্যমান ভোক্তা সুরক্ষা ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রস্তুতকারক ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পণ্যের লেবেলে উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে ইএসডিও।