tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকবাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতে বিক্ষোভ: রাজনীতির হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতে বিক্ষোভ: রাজনীতির হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশের হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শুক্রবারও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও শুরুতে দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে এসব বিক্ষোভ দেখা গেলেও গত কয়েক দিনে তা মূলত পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় কেন্দ্রীভূত হয়ে তীব্র রূপ নেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

কলকাতায় বিক্ষোভ ও বিজেপির ভূমিকা

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে কয়েকশ হিন্দু সাধু-সন্ন্যাসীর বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা একশ কোটি হিন্দু, বাংলাদেশের দেড়-দুই কোটি হিন্দুর জন্য লড়ব।”

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ‘হিন্দু সংহতি’ সংগঠনের সদস্যরাও একই স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দিনভর উপদূতাবাস এলাকায় ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় ২০০ মিটার দূরে লোহার ব্যারিকেড বসিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়।

অন্যান্য রাজ্যে বিক্ষোভ

শুক্রবার সকালে আসামের গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনারের দপ্তরের সামনেও একটি বাঙালি সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।

নির্বাচনী কৌশল নাকি মানবিক প্রতিবাদ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র চার-পাঁচ মাস আগে এই ধরনের বিক্ষোভ বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সাধু-সন্ন্যাসীদের অংশগ্রহণ

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কয়েকশ সাধু-সন্ন্যাসী উপদূতাবাসের সামনে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে আসামের কামাখ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নাগা সন্ন্যাসীরাও ছিলেন। তাদের গলায় ঝোলানো ছিল দীপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদী পোস্টার।

বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যোগী প্রতীকানন্দ বলেন,
“বাংলাদেশে প্রতিদিন সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চলছে। দীপু দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। ভারত সরকারকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।”

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জামিন দেওয়া হবে না বলে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

কলকাতা পুলিশ নয় ফুট উঁচু দুই স্তরের লোহার ব্যারিকেড স্থাপন করে, যা মাটিতে গেঁথে ঝালাই করা হয়। আশপাশের রাস্তা ও ফুটপাথেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। সাধু-সন্ন্যাসীরা শান্তিপূর্ণভাবে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নেন।

জনমত ও বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলেন,
“বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী প্রচার অসম্পূর্ণ। দীপু চন্দ্র দাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা করবে।”

সম্পূরক প্রেক্ষাপট

এরই মধ্যে কেরালা ও ওড়িশায় পৃথক দুটি গণপিটুনির ঘটনায় একজন হিন্দু ও একজন মুসলমান নিহত হয়েছেন, যাদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনাকেও কেন্দ্র করে প্রতিবাদের দাবি উঠেছে।