tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদটপ নিউজবন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, প্রাণহানি বেড়ে ৫১

বন্যায় প্লাবিত ৫৯ উপজেলা, প্রাণহানি বেড়ে ৫১

দেশের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। এ জেলায় মারা গেছেন ২৮ জন। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য সাত জেলায় মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সেখানে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় ১৩ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।

কক্সবাজারে ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া ২৪ জন আহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বান্দরবানে সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন অবস্থান করছেন। সেখানে ছয়জন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন।

রাঙামাটির নয়টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলা বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ জেলায় একজন আহত হয়েছেন।

মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন মানুষ অবস্থান করছেন। এ জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলায়ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে বন্যার্তদের সহায়তায় সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাতেও ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন্যার অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।