tanaka

ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমতে পারে ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংস্কারের তাগিদ

দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের প্রভাবে চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা ও দারিদ্র্য কমাতে...
প্রচ্ছদজাতীয়বহর সম্প্রসারণে ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ইউএস-বাংলা

বহর সম্প্রসারণে ১৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ইউএস-বাংলা

দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের বহর সম্প্রসারণে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা (১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে বহরে যুক্ত হবে আরও ২১টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির বহরে থাকা উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

২০২৭ সালের মধ্যে এ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইউএস-বাংলা। এজন্য বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি উড়োজাহাজ লিজিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২১টি বোয়িং ৭৩৭-৮ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বিনিয়োগ শুধু ইউএস-বাংলার সক্ষমতা বাড়াবে না, দেশের এভিয়েশন খাতের অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে দেওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক চিঠিতে এ পরিকল্পনার তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে ইউএস-বাংলা। অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। সেখানে বিনিয়োগ পরিকল্পনা, উড়োজাহাজ সরবরাহের সময়সূচি ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ কৌশল তুলে ধরা হবে।

ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন কেবল ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়, বরং বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে একটি বড় ধরনের বিনিয়োগ। নতুন উড়োজাহাজগুলোতে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন সুবিধা, প্রিমিয়াম সিট এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদন ব্যবস্থা।

প্রতিটি উড়োজাহাজে থাকবে ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে তারবিহীনভাবে সিনেমা, নাটক, সংগীতসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি থাকবে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধা, যার মাধ্যমে আকাশপথে ভ্রমণের সময়ও ইন্টারনেট ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান এবং যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া যাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করবে লিজিং প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাড়ানো, নতুন গন্তব্য চালু এবং যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু ও অন্যান্য কারিগরি জনবলের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

বর্তমানে ইউএস-বাংলা দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটির বহরে রয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০, ১০টি এটিআর ৭২-৬০০ এবং তিনটি অন্যান্য উড়োজাহাজ। নতুন ২১টি বোয়িং যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে দাঁড়াবে ৪৬টি উড়োজাহাজে।

দেশের অভ্যন্তরীণ সব প্রধান গন্তব্যের পাশাপাশি ইউএস-বাংলা বর্তমানে ভারত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে এয়ারলাইন্সটির।