tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদরাজনীতিপ্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শীর্ষ অবস্থানে রেখেছে।

সোমবার প্রকাশিত সাময়িকীটির সর্বশেষ সংখ্যার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, “খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার।”

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, এটি হবে ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ‘বিপ্লব’-এর পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই সময় ‘জেনারেশন জেড’-এর নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে, যা দ্য ইকোনমিস্টের ভাষায় ছিল কর্তৃত্ববাদী, সহিংস ও দুর্নীতিগ্রস্ত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ খুলে দেবে।

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের এই মূল্যায়ন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিনব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুরূপ বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায়।

সাময়িকীটি গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য তুলে ধরে জানায়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ফেরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং তাঁদের ভিড়ে বাসটি কয়েক মাইল পথ ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়, যেন সমর্থকেরা তাঁকে কাছ থেকে দেখতে পারেন।

দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নাগরিক কখনো প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা বিআইপিএসএসের পরিচালক শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “আমার জীবনের প্রায় দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না।” তবে তিনি বলেন, এখন রাজধানীর রাস্তাঘাটজুড়ে আবার নির্বাচনি ব্যানার ও পোস্টার দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধান করাই হবে শেষ দায়িত্ব। অধিকাংশ মানুষের মতে, এই সরকার অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কিছু কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করেছে—যার মধ্যে রয়েছে একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার উদ্যোগ, যাতে ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে পতনের ঝুঁকি কমে।

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, দলটি নির্বাচিত হলে ‘সব বাংলাদেশির জন্য সংযত শাসন’ নিশ্চিত করার দাবি করলেও তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দলটি কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ায় এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, “এই পরিস্থিতিই তারেক রহমানের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে,” কারণ জনমত জরিপে তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্ট স্মরণ করিয়ে দেয়, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি পরিচালিত হয়েছে তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এর আগে দলটি পরিচালনা করেন তাঁর বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে তিনবার ক্ষমতায় আসে।

সাময়িকীটি আরও জানায়, তারেক রহমান বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ না করলেও নির্বাচিত হলে বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের দক্ষ করে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণাও দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে পারার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “তিনি একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী।”

দ্য ইকোনমিস্টের মতে, তারেক রহমানের প্রধান অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার কথা বলেছেন, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের যুক্তি—২০২৪ সালের বিপ্লব প্রমাণ করেছে, যেসব সরকার জনগণের জন্য কার্যকর কর্মসূচি রাখতে ব্যর্থ হয়, তাদের পরিণতি কী হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “প্রতিশোধপরায়ণতা কখনোই কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না।”

দেশে ফেরার পর থেকে তিনি জনমনে প্রত্যাশিত অনেক কথাই বলছেন বলে মন্তব্য করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। যদিও এখনো অনেকে ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন—ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায়।

প্রতিবেদনটি শেষ হয়েছে এই মন্তব্য দিয়ে—“পর্যবেক্ষকদের মতে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই তারেক রহমানকে আগের তুলনায় বেশ ভিন্ন মনে হচ্ছে।”