প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার সর্বাত্মকভাবে রাত-দিন কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তবে দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়নের সুফল পেতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানান তিনি।
সোমবার দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ করে দিনাজপুর অঞ্চলের উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই দেশের শিল্পকারখানার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ওই বৈঠকে সারা দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে দিনাজপুরে শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশ্বাস দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের মেয়াদ এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান এবং খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী মাস থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পানির সংকট দূর হবে। কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ওপরে উঠলে আর্সেনিক সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হালিম, দিনাজপুর চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জমিয়তে ইসলামীর সভাপতি মতিউর রহমান কাশেমী এবং জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম।



