নবম পে স্কেল প্রণয়নে গঠিত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত বৈঠকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার— জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনের বেতনসংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদনের ওপর আলাদা করে সুপারিশ তৈরির দায়িত্বও এই কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন— জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ)।
কমিটি সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর প্রতিবেদনে বেতন কাঠামোসংক্রান্ত বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই প্রথম বৈঠকে বসেন সদস্যরা।
গত বছরের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এ কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা দেখা গেছে। তারা নতুন সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে জানান, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে তারা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাদের দাবি বাস্তবায়নে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত আসবে। এর আগে সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক আবেদনও জানানো হয়েছে।



