ফরিদপুরের মধুখালীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে হাফিজার শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী হাফিজার শেখের ছেলের স্ত্রী। বিয়ের পর থেকেই হাফিজার তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি তার বাবাকে সতর্ক করেন। এরপরও হাফিজার ওই নারীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে হাফিজার ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা সালিস-বৈঠকে বসেন এবং ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে এরপরও হাফিজারের আচরণে পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে হাফিজার ওই নারীকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগী বাবার বাড়িতে চলে যান। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি মধুখালী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।



