tanaka

পুলিশের শীর্ষপদে বড় রদবদল, বদলি ২৩ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনপারিবারিক জীবন নিয়ে মরিনিওর অকপট স্বীকারোক্তি

পারিবারিক জীবন নিয়ে মরিনিওর অকপট স্বীকারোক্তি

ফুটবল মাঠে জোসে মরিনিওর ব্যস্ততা ও সাফল্যের গল্প বিশ্বজুড়েই পরিচিত। প্রায় ২৫ বছর ধরে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কোচিং করানো এই পর্তুগিজ কোচ বেনফিকা, পোর্তো, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রোমা ও ইন্টার মিলানের মতো ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

তবে দীর্ঘ এই ব্যস্ত ক্যারিয়ারে পরিবারকে কতটা সময় দিতে পেরেছেন মরিনিও? সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের একটি নতুন ডকুমেন্টারিতে নিজের পারিবারিক জীবন নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ।

মরিনিও জানান, কোচিং ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ তাঁর হয় না। এমনকি তাঁর ভাষ্য, তাঁকে ছাড়া স্ত্রী ও সন্তানরা অনেক সময় নিজেদের জীবন আরও বেশি উপভোগ করেন।

শৈশবের বান্ধবী মাতিলদে ‘তামি’ ফারিয়াকে বিয়ে করেছেন মরিনিও। তাঁদের সম্পর্কের বয়স ৩৫ বছরেরও বেশি। এই দম্পতির দুই সন্তান—৩০ বছর বয়সী মাতিলদে এবং ২৬ বছর বয়সী জোসে মারিও জুনিয়র।

ম্যানচেস্টারে কোচিংয়ের সময় মরিনিও একাই একটি হোটেলে থাকতেন। অন্যদিকে, সন্তানরা বড় হওয়ার সময় পশ্চিম লন্ডনের পারিবারিক বাড়িতে থাকত।

ডকুমেন্টারিতে নিজের অনুপস্থিতি নিয়ে মরিনিও বলেন, কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, পরিবারের পাশে তাঁর থাকা উচিত ছিল। তবে ফুটবলের চেয়ে পরিবার তাঁর কাছে কোনোভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও জানান তিনি।

পরিবারের সঙ্গে নিজের অনুপস্থিতি নিয়ে আরও খোলামেলা হয়ে মরিনিও বলেন, তাঁকে ছাড়া স্ত্রী ও সন্তানরা অনেক সময় জীবনটা বেশি উপভোগ করেন। তাঁর মতে, পরিবারের সঙ্গে কোনো রেস্তোরাঁয় গেলে তাঁর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে কিছুটা ভিন্ন করে তোলে।

নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে স্ত্রী তামির অবদানের কথাও স্বীকার করেছেন মরিনিও। তিনি বলেন, পরিবারকে যতটা সম্ভব নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেন, যদিও সবসময় সফল হতে পারেননি।

স্ত্রীর প্রশংসা করে মরিনিও বলেন, তামি একজন অসাধারণ মা। ফুটবল তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এ বিষয়টি তাঁর সন্তানদেরও বুঝতে হয়েছে।

ফুটবল ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সীমারেখা নিয়েও নিজের দর্শন তুলে ধরেন মরিনিও। তাঁর মতে, আনন্দ, কষ্ট কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো অনুশীলন মাঠেই রেখে আসা উচিত। তিনি স্বীকার করেন, এটি হয়তো কিছুটা পুরোনো ধ্যানধারণা, তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলানোর প্রয়োজন দেখেন না তিনি।

মরিনিওর বক্তব্যে স্পষ্ট, ফুটবল তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ হলেও পরিবার তাঁর কাছে সম্পূর্ণ আলাদা এক জগত। দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের ব্যস্ততায় পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকতে হলেও নিজের এই বাস্তবতাকে তিনি মেনে নিয়েছেন।