পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকলে ইসলামাবাদ কাবুলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে, যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) ইসলামাবাদে জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দিল্লি ও কাবুলের মধ্যে এখন আর কোনো পার্থক্য নেই। পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় সীমান্তেই একই ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছে।
খাজা আসিফের অভিযোগ, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার ভারতের প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানকে কার্যকর কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, কাবুল শুধু মৌখিক আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু লিখিতভাবে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি নয়।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সন্ত্রাসীদের প্রতি সহায়তা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ককে যুক্ত করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিল। এসব দেশের সহায়তায় আফগান সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকারের সহযোগিতা দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ছিল না বলেও অভিযোগ করেন খাজা আসিফ। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী নিঃস্বার্থভাবে আত্মত্যাগ করছে এবং সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারীরাই পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বন্ধুপ্রতিম কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চালালেও পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
গত বছর তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সূত্র: জিও নিউজ



