tanaka
প্রচ্ছদইসলাম ও জীবনপরিবার নিয়ে ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করা যাবে কি?

পরিবার নিয়ে ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করা যাবে কি?

জীবনের প্রতিটি বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে মানুষের বয়স যেমন বাড়ে, তেমনি জীবন থেকে কমে যায় আরও একটি বছর। তাই সন্তানের কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের জন্মদিনকে ঘিরে আনন্দ অনুভব করা স্বাভাবিক। অনেকে মনে করেন, বাইরে বড় আয়োজন না করে শুধু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে জন্মদিন পালন করলে এতে আপত্তির কারণ নেই।

তবে একজন মুসলমানের আনন্দ প্রকাশ ও কোনো বিশেষ দিন উদযাপনের ক্ষেত্রেও ইসলামের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। জন্মদিন পালনের প্রচলিত রীতি ইসলামি সংস্কৃতির অংশ কি না এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়াভাবে এমন আয়োজন করা শরিয়তসম্মত কি না—এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা জানা প্রয়োজন।

জন্মদিনের প্রচলিত রীতি কি ইসলামি সংস্কৃতির অংশ?

বর্তমান সময়ে কেক কাটা, মোমবাতি জ্বালানো ও বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে জন্মদিন উদযাপন একটি প্রচলিত সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের জন্মদিন উদযাপন ইসলামি সংস্কৃতির ঐতিহ্যগত অংশ নয়; বরং এর উৎস অমুসলিম ও খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইসলামি শরিয়তের নীতিতে অন্য ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি অনুকরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। এ কারণে কেক কাটা, মোমবাতি নেভানো কিংবা জন্মদিনকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিশেষ রীতিগুলো অনুসরণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জন্মের জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা

জন্মদিনকে কেবল আনন্দ-উৎসবের উপলক্ষ হিসেবে না দেখে আল্লাহর দেওয়া জীবন ও নিয়ামতের কথা স্মরণ করার দিন হিসেবেও দেখা যেতে পারে। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা একজন মুমিনের জন্য বৈধ ও প্রশংসনীয় আমল। তবে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পদ্ধতি ইসলামি বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল হিসেবে সোমবারের রোজার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়। হজরত আবু কাতাদা আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন—

‘এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর পবিত্র কুরআন নাজিল করা হয়েছে।’

(মুসলিম ২৮০৭, আবু দাউদ ২৪২৬, ইবনে খুজাইমা ২১১৭, মুসনাদে আহমাদ ২২৫৫০)

এই হাদিসের আলোকে লেখাটিতে জন্মের দিনকে কেন্দ্র করে প্রচলিত উৎসবের পরিবর্তে রোজা, দান-সদকা ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের কথা বলা হয়েছে।

অন্য জাতির রীতি অনুসরণের বিষয়ে সতর্কতা

অন্য সম্প্রদায়ের বিশেষ রীতি ও সংস্কৃতি অনুসরণের বিষয়ে একটি হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য ও রীতি অনুসরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’

(আবু দাউদ ৪০৩১)

হাদিসটির ব্যাখ্যায় হাদিসবিশারদ ও ফকিহদের আলোচনায় মানুষের বাহ্যিক অবয়ব, পোশাক, চরিত্র এবং ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ‘মিরকাতুল মাফাতিহ, কিতাবুল লিবাস’ (৪/৪৩)-এর ব্যাখ্যাও উদ্ধৃত করা হয়েছে।

জন্মদিন হতে পারে আত্মপর্যালোচনার উপলক্ষ

একটি বছর শেষ হয়ে নতুন বছরে প্রবেশ করা শুধু আনন্দের বিষয় নয়; এটি নিজের জীবন ও আমল নিয়ে ভাবারও সুযোগ। পরিবারের কেউ জন্মদিনে পৌঁছালে প্রচলিত উৎসবের পরিবর্তে সবাই মিলে তার জন্য দোয়া করা, নফল ইবাদত করা, রোজা রাখা এবং অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করার মতো ভালো কাজ করা যেতে পারে।

জীবনের প্রতিটি নতুন বছর মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে তার সময় সীমিত। তাই আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, আত্মশুদ্ধি ও সৎকর্মের মাধ্যমে সময়কে কাজে লাগানোই হতে পারে একজন মুমিনের জন্য অধিক তাৎপর্যপূর্ণ পথ।