দুনিয়ার আবেগ ও ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী। তবে মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি মুমিনের গভীর ভালোবাসা আখিরাতের চিরস্থায়ী কল্যাণের পথ খুলে দেয়। নবীপ্রেমের সবচেয়ে বড় সুসংবাদ এসেছে সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি ঐতিহাসিক হাদিসে, যা মুমিনের অন্তরে আশা ও প্রশান্তি জাগায়।
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামত কখন হবে?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) পাল্টা জানতে চাইলেন, ‘তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?’
লোকটি বললেন, ‘আমি কিয়ামতের জন্য খুব বেশি নামাজ, রোজা বা সদকা প্রস্তুত করতে পারিনি। তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসি।’
এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে সুসংবাদ দিয়ে বললেন—
أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ
‘তুমি যার সঙ্গে ভালোবাসা পোষণ করো, আখিরাতে তুমি তার সঙ্গেই থাকবে।’ —সহিহ মুসলিম, ২৬৩৯
হজরত আনাস (রা.) বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর চেয়ে সাহাবিদের কাছে অধিক আনন্দদায়ক আর কোনো কথা ছিল না।
সহিহ মুসলিমের আরেক বর্ণনায়ও নবীপ্রেমের এই মর্যাদার বিষয়টি এসেছে। এক ব্যক্তি এমন একজনকে ভালোবাসার কথা জানতে চেয়েছিলেন, যার আমল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলের পর্যায়ে নয়। জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে আশ্বস্ত করেন যে মানুষ হাশরের ময়দানে তার প্রিয় ব্যক্তির সঙ্গেই থাকবে।
তবে এই সুসংবাদের অর্থ কখনোই আমল ছেড়ে দেওয়া কিংবা দ্বীনি দায়িত্ব পালনে উদাসীন হয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রকৃত নবীপ্রেম মানুষকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহিত করে, পাপ ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখে এবং উত্তম চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করে।
যে ভালোবাসা মানুষের কথা, কাজ, আচরণ ও জীবনযাপনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শকে প্রতিফলিত করে, সেটিই প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কারণ ভালোবাসার দাবি শুধু মুখের কথায় নয়; বরং প্রিয় ব্যক্তির আদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়েই তার সত্যতা প্রকাশ পায়।
তাই দুনিয়ার মোহ ও ব্যস্ততার মধ্যেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর আদর্শ অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলাই নবীপ্রেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। খাঁটি ভালোবাসা ও সুন্নাহর অনুসরণ একসঙ্গে থাকলেই মুমিনের জীবনে সেই ভালোবাসা পূর্ণতা পায়।
আর এই ভালোবাসার সর্বোত্তম পরিণতি হলো—আখিরাতে জান্নাতে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সান্নিধ্য ও সাহচর্য লাভ করা।



