বাংলাদেশে পণ্য বা সেবার মান নিয়ন্ত্রণের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া বেশ কঠিন। ভোক্তারা প্রায়ই প্রত্যাশিত মানের পণ্য বা সেবা না পেয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন। নকল ও নিম্নমানের পণ্য ও সেবা দিয়ে প্রতারণার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।
বর্তমানে দেশে হাজার হাজার পণ্য থাকলেও মাত্র ৩১৫টি পণ্য বাধ্যতামূলক মানসনদের আওতায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এই সংখ্যা আরও বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশে পণ্য, সেবা ও প্রক্রিয়ার মান নির্ধারণে একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। মান প্রণয়নের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের গুণমান পরীক্ষা, বাধ্যতামূলক মানসনদের আওতাভুক্ত পণ্যে সনদ প্রদান এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ করে। এছাড়াও তারা পণ্যের মানসনদ প্রাপ্তির পর নিয়মিত তদারকি, ওজন ও পরিমাপের নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ এবং পণ্য সংক্রান্ত ম্যাট্রিক পদ্ধতির বাস্তবায়নে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মান সংস্থাগুলোর সঙ্গেও বিএসটিআই বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে।
বাজারে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পণ্য যোগ হচ্ছে এবং পণ্যের বৈচিত্র্যও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেই প্রকারভেদ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ এসব পণ্যের বেশিরভাগই বাধ্যতামূলক মানসনদের বাইরে রয়েছে। ফলে অনেক সময় এসব পণ্যে যথেচ্ছ উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করে।
বর্তমানে বাধ্যতামূলক মানসনদের আওতাভুক্ত ৩১৫টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে—
- খাদ্যপণ্য: ১১৫টি
- কেমিক্যাল: ৭৫টি
- যন্ত্রপাতি: ৪৪টি
- পাট ও বস্ত্রপণ্য: ৩১টি
- ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য: ৫০টি
এই প্রেক্ষাপটে, ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের আওতা আরও বাড়ানো সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।



