tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়পক্ষপাতিত্ব করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: ড. ইফতেখারুজ্জামান

পক্ষপাতিত্ব করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: ড. ইফতেখারুজ্জামান

নির্বাচনকালীন সরকার যদি নিরপেক্ষ না থাকে এবং পক্ষপাতিত্ব করে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যদি প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু নির্বাচন না চায়, তাহলে নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি।”

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নির্বাচন কমিশন-বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন আরএফইডি এবং টিআইবি আয়োজিত একটি ইলেকশন ট্রেনিং কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসনে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠদের প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই বাস্তবতায় দুর্বলতাসহ আমাদের সামনে এগোতেই হবে। আমাদের সরকারি কাঠামো—যার মধ্যে সুশাসন, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, সততা ও ট্রান্সপারেন্সি—তা দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছে। এটি কেবল গত ১৬ বছরের চিত্র নয়, বরং স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৫৪ বছর ধরেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “প্রশাসনের অনেক জায়গায় দলীয়করণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে পেশাগত বৈষম্য ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এসবকে কার্যকর করেছেন, আবার কেউ কেউ অকার্যকর করে রেখেছেন। এই বাস্তবতায় এক বা দেড় বছরের মধ্যে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানো সম্ভব নয়।”

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রশ্ন ওঠে—এই প্রশাসন দিয়ে কি সত্যিকারের সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায়? এই প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়, কারণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে এখনও অনেক ‘পতিত সরকারের’ প্রতিনিধি বা সহানুভূতিশীল ব্যক্তি রয়েছেন। আবার অনেককে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখা হয়েছে, তাদের ফেরানোর মধ্যেও দলীয় প্রভাব কাজ করেছে।”

তবে সব কিছু সত্ত্বেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “প্রশাসনে এখনও কিছু পেশাদার কর্মকর্তা আছেন, যারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তিন ধরনের শক্তির—দলীয় প্রভাবিত, বঞ্চিত পক্ষ এবং পেশাদার—মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই প্রশাসন চলছে। এটিকে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। এজন্য সময় দিতে হবে, যাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং একটি নতুন ধরনের পেশাদার প্রশাসন গড়ে ওঠে।”