ন্যায়বিচারই সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষা করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষিতে।
আ স ম রব বলেন, “সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখানোর অর্থ হলো, চিহ্নিত অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে সেনাবাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত অপরাধের দায় কোনোভাবেই সমগ্র প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে তা ওই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিকেই দুর্বল করে ফেলে।
আ স ম রব সম্প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল যে পরোয়ানা জারি করেছে, তা দ্রুত কার্যকর না হলে এর পরিণতি গোটা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দুর্বল করে তুলতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “সেনাবাহিনী আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক। জাতি আশা করে, যে কোনো পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। এটি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে কেবল জাতীয় স্বার্থ ও সংবিধানের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে।”
এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হয় কিংবা গুম-খুনের মতো অসাংবিধানিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়, তবে তার ভয়াবহ প্রভাব ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান সময় সেনাবাহিনীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত। এখন আরও বেশি পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।”
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর বিকাশ শুধু সামরিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা নির্ভর করে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির ওপর। সামরিক বা বেসামরিক – কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ন্যায়বিচার ও আইনের যথাযথ প্রয়োগই প্রজাতন্ত্রের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করবে।”



