tanaka

ইরানে রেয়ার আর্থের সন্ধানে চীনা বিজ্ঞানীরা, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ

আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজের সন্ধানে ইরানে বিজ্ঞানী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে চীন। এসব খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকনিজ দলেই বিরোধের মুখে দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা

নিজ দলেই বিরোধের মুখে দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা

নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরেছেন দলটির সাবেক সভাপতি ও পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। তার ঘনিষ্ঠ নেতারা তাকে আবারও দলের সভাপতি করে তার নেতৃত্বে ১৫তম সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে দলটির একটি অংশ দেউবাকে আর সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় না।

নেপালের সুপ্রিম কোর্ট গত ১৭ এপ্রিলের রায় পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেওয়ার পর দেউবা-ঘনিষ্ঠ শিবির নতুন করে এই দাবি সামনে আনে। ওই রায়ে গগন থাপার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস কমিটিকে দলের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

দেউবা-সমর্থক নেতাদের মতে, এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা অথবা দেউবার নেতৃত্বে সাধারণ সম্মেলনের আয়োজন করা।

দেউবার ঘনিষ্ঠ নেতা প্রকাশ শরণ মহাত বলেন, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা যেতে পারে। আবার ১৪তম সাধারণ সম্মেলনে দেউবার নেতৃত্বে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে গ্রহণ করে ১৫তম সাধারণ সম্মেলনের প্রস্তুতিও নেওয়া যেতে পারে। তার মতে, স্বাভাবিকভাবেই ১৫তম সাধারণ সম্মেলন দেউবার নেতৃত্বেই হওয়া উচিত।

বিশেষ সাধারণ সম্মেলনকে ঘিরে দলের মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, সেটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন মহাত। তার দাবি, আদালত যেহেতু আগের রায় পুনর্বিবেচনায় সম্মত হয়েছে, তাই দেউবার নেতৃত্বে সম্মেলনে অপর পক্ষ রাজি থাকলে চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা না করেও দলের ঐক্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

দেউবার নেতৃত্বে বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে একত্র করা সহজ হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, দেউবার নেতৃত্বে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা কোণঠাসা করা হবে না।

পাঁচ মাস পর দেশে ফিরলেন দেউবা

প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নেপালে ফেরেন শের বাহাদুর দেউবা। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি কাঠমান্ডুর চুন্ডেভিতে তার সমর্থক গোষ্ঠীর যোগাযোগ কার্যালয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন।

সমর্থকদের অনুরোধে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন দেউবা। এ সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

অভিযোগগুলোর ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেউবা বলেন, রাজতান্ত্রিক পঞ্চায়েত আমল, রাজা জ্ঞানেন্দ্রর সরাসরি শাসন কিংবা বর্তমান রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ও তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজা জ্ঞানেন্দ্র যা পারেননি, এখন অন্য কেউ কি তা করতে পারবেন?

চুন্ডেভিতে যাওয়ার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেউবা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও অসন্তোষের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। দেশের প্রধান গণতান্ত্রিক দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভোটারদের কংগ্রেসের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসকে সম্মান করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান দেউবা।

তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের রাজনীতিতে তরুণ নেতাদের সামনে আসা প্রয়োজন। তবে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের অযোগ্য বা মূল্যহীন হিসেবে উপস্থাপন করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় কোনো নেতাকে দলীয় দায়িত্বের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

বিশেষ সম্মেলন থেকেই বিরোধের শুরু

নেপালি কংগ্রেসের বর্তমান নেতৃত্ব সংকটের সূত্রপাত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সম্মেলনকে ঘিরে। দলের ৪০ শতাংশের বেশি প্রতিনিধি এই সম্মেলনের দাবি জানিয়েছিলেন। ওই সম্মেলনে গগন থাপাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

এরপর নির্বাচন কমিশন থাপার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে স্বীকৃতি দিলে দেউবা শিবির সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায়।

গত ১৭ এপ্রিল আদালতের একটি বেঞ্চ থাপার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নেপালি কংগ্রেসের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও বহাল রাখা হয়। এতে প্রায় তিন মাস ধরে চলা নেতৃত্ব সংকটের একটি পর্যায়ের অবসান ঘটে।

পরে দেউবা শিবির ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। তাদের দাবি, আদালতের আগের রায়ে আইনগত ত্রুটি রয়েছে। প্রাথমিক পর্যালোচনার পর ২২ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি নথিভুক্ত করে। এরপর আদালত পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেওয়ায় দলটির নেতৃত্ব নিয়ে আইনি প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

দেউবাকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবে আপত্তি থাপা শিবিরের

দেউবাকে আবার সভাপতি করার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন নেপালি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ পৌডেল।

তিনি বলেন, বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাকে আবার সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করে সাধারণ সম্মেলনের দিকে এগিয়ে যাওয়া আইনগত, প্রক্রিয়াগত ও রাজনৈতিক—কোনো দিক থেকেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

পৌডেলের মতে, দেউবা ইতোমধ্যে দুই মেয়াদে দলের সভাপতি ছিলেন। তাই দলীয় গোষ্ঠীগত প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে থেকে দলের বৃহত্তর ঐক্যের জন্য তার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করা উচিত।

তিনি বলেন, তারা আশা করেছিলেন দেউবা নিজেই বলবেন—‘আমি সভাপতি নই, তাই আমাকে সভাপতি বলে ডাকবেন না।’ এখনো তারা বিশ্বাস করেন, দলের ঐক্যের জন্য দেউবা উদ্যোগ নেবেন।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের শুরুতে দেউবার দেশে ফেরাকে স্বাগত জানান গগন থাপা। তিনি বলেন, সাবেক সভাপতি দেউবা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে দেশে ফেরায় তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন তিনি।

দেউবার বিরুদ্ধে অর্থপাচার তদন্তও চলছে

নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্ব সংকটের পাশাপাশি দেউবার আইনি জটিলতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি বিদেশে থাকার সময় দেশটির অর্থপাচার তদন্ত বিভাগ তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।

দেউবা ও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধে কাঠমান্ডু জেলা আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

তবে ২৫ মে সুপ্রিম কোর্ট দেউবা দম্পতিকে গ্রেপ্তার না করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আইনগত বৈধতা নেই। অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের তদন্তাধীন অপরাধ বিশেষ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এবং গ্রেপ্তারের জন্য যথেষ্ট আইনগত ভিত্তিও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ইন্টারপোলও দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে অর্থপাচারের তদন্ত এখনো চলছে। জুলাইয়ে তদন্তকারীরা বিশেষ আদালতে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে দেউবার ছেলে জয়বীর দেউবার মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২ কোটি ৬০ লাখ নেপালি রুপির একটি লেনদেনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

দেউবার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর এই তদন্তের বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট