যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক বৈঠকে ভারতের প্রতি কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত বছরের গণবিপ্লবকে ভারত ভালোভাবে নেয়নি, যার ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।
ড. ইউনূস বলেন, “গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে যে গণআন্দোলন হয়েছে, তা ভারত মেনে নিতে পারেনি। সেই থেকেই দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো নানা ধরনের ভুয়া তথ্য প্রচার করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তারা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে যে, আন্দোলনটি ছিল একটি ইসলামি উগ্রপন্থী উদ্যোগ, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এছাড়া, ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, যিনি বাংলাদেশে সংকট তৈরি করেছেন। এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।”
ভারতের ভূমিকাকে দায়ী করে তিনি বলেন, “সার্ক জোট কার্যকর হতে পারছে না, কারণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই আঞ্চলিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।” পাশাপাশি, তিনি আসিয়ান জোটে বাংলাদেশের যোগদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের আচরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সার্জিও গোরকে এক মাস আগে ভারতের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে সর্বশেষ সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সম্মেলনে উরির সন্ত্রাসী হামলার কারণে ভারত অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়, যার ফলে সার্ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বর্তমানে ভারত সার্কের তুলনায় বিমসটেককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ওই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ বিমসটেক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সূত্র: এনডিটিভি



