tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদরাজনীতিনারীদের জন্য তারেক রহমানের ৬ অঙ্গীকার

নারীদের জন্য তারেক রহমানের ৬ অঙ্গীকার

নারী ও কন্যাশিশুদের স্বপ্নপূরণে রাষ্ট্রকে পাশে রাখার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সুযোগ পেলে বিএনপি এমন একটি রাষ্ট্র গড়বে, যেখানে নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার বিকাশে থাকবে প্রতিশ্রুতিশীল নীতি ও টেকসই বিনিয়োগ।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ৬টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে নারীবান্ধব এক সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ।

তারেক রহমানের ৬টি প্রতিশ্রুতি:

  1. নারী গৃহপ্রধানদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ – পরিবারে যিনি মূল দেখভাল করেন, তাঁর হাতেই যাবতীয় সহায়তা ও প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।
  2. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ ও প্রশিক্ষণ – অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় আপসহীন থেকে নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ব্যবসায়িক দক্ষতা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
  3. শক্তিশালী একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ – প্রত্যন্ত অঞ্চল হোক বা শহর, প্রতিটি মেয়ের জন্য প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সমান সুযোগ সৃষ্টি।
  4. নীতিনির্ধারণে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ – রাজনীতি, প্রশাসন ও নীতি প্রণয়নে নারীদের সমান ও কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
  5. মেয়েদের মর্যাদা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা – যাতে তারা নির্ভয়ে চলাফেরা, মত প্রকাশ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ভোগ করতে পারে; এবং গড়তে পারে ভয়মুক্ত ভবিষ্যৎ।
  6. পরিবার ও সামাজিক কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দুতে নারী ও কন্যাশিশু – স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়নে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নীতি গ্রহণ।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা চাই, প্রতিটি মেয়ে তার স্বপ্নপূরণের যাত্রায় রাষ্ট্রকে সঙ্গী হিসেবে পাক, কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়।”

তিনি আরও বলেন, “একজন কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে আমি জানি—মেয়েদের ক্ষমতায়ন শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি গভীরভাবে ব্যক্তিগত ও মানবিক দায়বদ্ধতা।”

তারেক রহমান মনে করিয়ে দেন, অতীতে বিএনপি সরকার নারীদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশের মধ্য দিয়ে লক্ষ লক্ষ নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। গঠিত হয়েছিল ‘মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়’, যা নারীদের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলেও নারীর ক্ষমতায়নে নেওয়া হয়েছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তার নেতৃত্বেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা করা হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ ও ‘নগদ সহায়তা’ কর্মসূচির মাধ্যমে লাখ লাখ মেয়ে বিদ্যালয়ে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছে, যা পরিবার ও সমাজের কাঠামোকে বদলে দেয়।

বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ‘ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গসমতা অর্জিত হয় এবং শিশুবিবাহের হার কমে আসে। এটি পরবর্তীতে বহু উন্নয়নশীল দেশে অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, “যখন সুশাসন কন্যাশিশুর মর্যাদাকে সম্মান করে ও তাদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে, তখনই অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।”