tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিনাম বদলে কালো টাকা হচ্ছে ‘মূলধনি আয়’!

নাম বদলে কালো টাকা হচ্ছে ‘মূলধনি আয়’!

আগামী অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছেন, ভিন্ন কাঠামোয় হলেও এ সুযোগ বহাল থাকছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দাবি করছে, বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

এই বিতর্কের মধ্যেই অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকার নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বাজেটে যে সুবিধা রাখা হয়েছে, তা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ নয়; বরং এটি ‘ক্যাপিটাল গেইন’ বা মূলধনি আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তাদের বক্তব্য, অপ্রদর্শিত আয় ও মূলধনি আয় সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

চলতি অর্থবছরের মতো আগামী বাজেটেও জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ কার্যত বহাল রয়েছে। যদিও বাজেট বক্তৃতায় বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট কর ব্যবস্থায় এমন সুযোগ রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে মৌজা মূল্য এবং প্রকৃত বাজারমূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় অনেক লেনদেনের অর্থ কর নথিতে প্রতিফলিত হয় না। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপ্রদর্শিত থেকে যায়। বিভিন্ন মহল থেকে এবারের বাজেটে এমন সুযোগ বাতিলের দাবি জানানো হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায়, জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রির সময় বাজারমূল্যের যে অংশটি আনুষ্ঠানিক নথিতে দেখানো হয়নি, তা করদাতা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করতে পারবেন। নির্ধারিত হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে ওই অর্থকে বৈধ আয়ের আওতায় আনা যাবে। তবে এজন্য করদাতাকে ঘোষণা দিতে হবে যে অর্থটি সম্পদ বিক্রি থেকে এসেছে এবং তার সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রও থাকতে হবে।

তবে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এটিকে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয় বলতে নারাজ। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি মূলত ক্যাপিটাল গেইন বা মূলধনি আয়। কোনো ব্যক্তি তার মূলধনি সম্পদ বিক্রি করে যে আয় করেন, সেটিই এখানে বিবেচ্য।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি ১০ লাখ টাকায় জমি বিক্রি করেন কিন্তু মৌজা মূল্যের ভিত্তিতে ২ লাখ টাকায় নিবন্ধন সম্পন্ন হয়, তাহলে অবশিষ্ট ৮ লাখ টাকা তিনি ওই অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে দেখাতে পারবেন। যথাযথ কর পরিশোধ করলে ওই অর্থ বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্যাপিটাল গেইনের সংজ্ঞা ভিন্ন। কোনো সম্পদ ক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে যে মুনাফা অর্জিত হয়, সেটিই মূলধনি মুনাফা বা ক্যাপিটাল গেইন। যেমন, ১০ লাখ টাকায় কেনা একটি সম্পদ ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করলে ২ লাখ টাকা হবে ক্যাপিটাল গেইন। এই মুনাফার ওপর আরোপিত করকে বলা হয় ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স।

এ প্রসঙ্গে Centre for Policy Dialogue (CPD)-এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক Mustafizur Rahman বলেন, অপ্রদর্শিত আয়কে কোনোভাবেই ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। তার মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে জমি ও সম্পত্তি লেনদেন থেকে সৃষ্ট অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ এখনও রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, বারবার এমন সুযোগ দেওয়া হলেও সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না। বরং এটি নিয়মিত কর পরিশোধকারী সৎ করদাতাদের জন্য একটি নৈতিক ঝুঁকি বা ‘মরাল হ্যাজার্ড’ তৈরি করে।

মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, সমস্যার মূল কারণ হলো মৌজা রেট নির্ধারণের বর্তমান নীতিমালা। বাজারমূল্যের সঙ্গে এর বড় পার্থক্যের কারণেই বিপুল অর্থ অপ্রদর্শিত থেকে যায়। সরকার মৌজা রেট হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। নীতিমালার পরিবর্তনের আগে হয়তো এটিই এমন সুবিধা পাওয়ার শেষ সুযোগ হতে পারে।