প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শুক্রবার (১২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাজেট বাস্তবায়নের মূলনীতি, সরকারের ‘3R Strategy’, ১০টি অগ্রাধিকার খাত এবং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য তিন ধরনের ‘ডিভিডেন্ড’ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
মাহদী আমিন জানান, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করতে সরকার চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে— ভ্যালু ফর মানি (Value for Money), অর্থাৎ সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার; রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (Return on Investment), অর্থাৎ জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক সুফল মূল্যায়ন; জব ক্রিয়েশন (Job Creation), অর্থাৎ সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি; এবং এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন (Environmental Consideration), অর্থাৎ পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে অগ্রাধিকার।
অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ‘3R Strategy’ নামে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।
কৌশলটির প্রথম ধাপ রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন (Recovery & Stabilisation), যার মেয়াদ এক বছর। এ পর্যায়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপ রিস্টোরেশন (Restoration), যা বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থনীতির উত্তরণ ও কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়া হবে।
তৃতীয় ধাপ রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন (Reconstruction for Acceleration)। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ, উৎপাদনমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই এ ধাপের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ১০টি প্রধান অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো— সবার জন্য উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানভিত্তিক উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ (ডিরেগুলেশন), আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে সরকার তিন ধরনের লভ্যাংশ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (Demographic Dividend), লংজেভিটি ডিভিডেন্ড (Longevity Dividend) এবং ডেমোক্রেটিক ডিভিডেন্ড (Democratic Dividend)।
তার মতে, এসব কৌশল ও অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে।



