tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদজাতীয়নতুন পে-স্কেল যেন দুর্নীতির ‘প্রিমিয়াম’ না হয়: টিআইবি

নতুন পে-স্কেল যেন দুর্নীতির ‘প্রিমিয়াম’ না হয়: টিআইবি

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে নীতিগতভাবে যৌক্তিক উল্লেখ করলেও এর ফলে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে কি না—সে বিষয়ে আগে অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করা এবং যাদের করের অর্থে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়—সেই জনগণের সহজ ও মানসম্মত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতে জনপ্রশাসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কার্যকর জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। একই সঙ্গে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হলে নতুন পে-স্কেল ঘুষ ও দুর্নীতির ‘প্রিমিয়াম’ বৃদ্ধির অব্যর্থ হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতে এমন কোনো নজির নেই যে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে সরকারি খাতে দুর্নীতি কমেছে। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেতন বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হারে ঘুষসহ অবৈধ লেনদেন বেড়েছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হয়েছে। এবার ভিন্ন কিছু হবে—এমনটি ভাবারও বাস্তব কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, একদিকে সেবামুখী মানসিকতার ঘাটতি, জবাবদিহিহীন আচরণ ও লাগামছাড়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া, অন্যদিকে সংকীর্ণ স্বার্থে কর্মচারীদের দাবির মুখে বেতন-ভাতা বাড়ানো—এটি সাধারণ জনগণের সঙ্গে উপহাসের শামিল।

জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো ছাড়াই যদি সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির টেকসই ও নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে পায়, সেক্ষেত্রেও বিষয়টি বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, সরকারি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের সব পদ্ধতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন কঠোরভাবে প্রতিপালনের শর্তে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করা হলে জনগণ হয়তো পরীক্ষামূলকভাবে আরেকবার তা মেনে নিতে পারে।

এর অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—সকল পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশ করতে হবে। যারা নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। আর যারা তা করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হবে না। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলে জোর দাবি জানায় টিআইবি।