tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদজাতীয়ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে সরকার

ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে সরকার

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৬ জুন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে জুন মাসের মধ্যেই শেষ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকেও সেনাবাহিনীকে সরিয়ে নেওয়া হবে। সবশেষে জুনের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে থাকা সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার কোর কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবির মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পুলিশের পোশাক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

পটভূমিতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে তৎকালীন সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। একই বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম ব্যাহত হলে সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের আগস্টেই জানিয়েছিলেন, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যেতে চায় এবং পুলিশ পুরোপুরি পুনর্গঠিত হলে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের নভেম্বর থেকে সীমিত আকারে প্রত্যাহার শুরু হয়। তবে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুনরায় তাদের মাঠে মোতায়েন করা হয়।

সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান আবারও বলেন, নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের ফলে সদস্যদের ক্লান্তি ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিকবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সর্বশেষ বৈঠকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে।

বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের বিষয়েও আলোচনা হয়। যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাদের জামিনে বাধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিদেশ যাত্রায় হয়রানি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পূর্ববর্তী সরকারের সময় দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের কথাও আলোচনায় উঠে আসে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের জন্য গণ্যমান্য মর্যাদা দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সারা দেশে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে। সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হলেও তা গৃহীত হয়নি। ফলে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টই বহাল থাকছে।