tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদটপ নিউজদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ও উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ও উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের স্থান হবে না এবং দেশকে কোনোভাবেই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব মৌলিক প্রশ্নে জাতির যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে তিনি বলেন, “১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না, তেমনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদেরও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট বিজয় ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকেই জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ভিন্নমতের মানুষ এবং গণতন্ত্রকামী নাগরিকদের গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠরোধে দেশে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে বহু মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়। অনেকেই নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমের নামও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়। একই সঙ্গে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাত দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং দেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসে। আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হারান।

প্রধানমন্ত্রী রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্রকামী মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের ফলে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল ঘটনা।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি জাতি চিরঋণী। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধভিত্তিক একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে, তবে সেই ভিন্নমত যেন বিভেদ বা শত্রুতায় রূপ না নেয়—এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।